
আগামী ৫ আগস্ট, বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির ঠিক দুই বছর পূর্তির দিন। এই দিনটি ঘিরে দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভার্চুয়াল বক্তব্য দেওয়ার খবরে ঢাকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো যখন শেখ হাসিনার ‘ডিসেম্বরে দেশে ফেরা’ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দর্শন’ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, তখন বর্তমান সরকারের মাঝে এক ধরনের দৃশ্যমান অস্থিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে ঢাকায় উদ্বেগের কারণ: কেন এই ভয়? শেখ হাসিনা ভারত থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন এটি বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর কারণগুলো হলো:
১. জনসমর্থন ও মনোবোল: গত কয়েক মাসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনেকটাই কোণঠাসা। শেখ হাসিনার একটি সরাসরি ভাষণ বা অডিও বার্তা মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ‘রাজনৈতিক সঞ্জীবনী’ হিসেবে কাজ করতে পারে, যা বর্তমান স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে।
২. আন্তর্জাতিক প্রভাব: দিল্লির মঞ্চ ব্যবহার করে বিশ্ব গণমাধ্যমের সামনে শেখ হাসিনা যদি বর্তমান সরকারের বৈধতা বা মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তবে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকার জন্য অস্বস্তির কারণ হবে।
৩. ডিসেম্বর প্রত্যাবর্তনের রুটম্যাপ: বিভিন্ন বিদেশি সংবাদমাধ্যমের দাবি, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। ৫ আগস্টের বক্তব্য সেই প্রত্যাবর্তনেরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে।
কূটনৈতিক তৎপরতা: ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব ও আলোচনা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ঢাকা ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয় করেছে। জানা গেছে, ঢাকার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে ভারতীয় হাই কমিশনারের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করা হয়েছে। ঢাকাই কর্মকর্তাদের প্রশ্ন- এক দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অন্য দেশের মাটিতে বসে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারেন কি না? তবে ভারতের পক্ষ থেকে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ এবং ‘দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের’ দোহাই দিয়ে বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়ার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
আইনি লড়াই বনাম কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতা
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া চললেও, ভারতে বসে তাঁর বক্তব্য দেওয়া ঠেকানো দিল্লির জন্য একটি কূটনৈতিক উভয়সংকট’। ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বললেও, বেসরকারি ক্লাব বা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করা ভারতের অভ্যন্তরীণ আইন অনুযায়ী বেশ জটিল।
নতুন সমীকরণ: ডিসেম্বর কি তবে তুরুপের তাস?
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ৫ আগস্টের অনুষ্ঠানটি কেবল একটি স্মৃতিচারণ নয়, বরং এটি শেখ হাসিনার ‘পাওয়ার কামব্যাক’-এর প্রথম ধাপ। মার্কিন দূত সার্জিও গোরের ঢাকা সফর এবং ভারতের দুই প্রধান দলের নেতাদের (অমিত শাহ ও রাহুল গান্ধী) শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়গুলো একসূত্রে বাঁধলে বোঝা যায়- দিল্লির নেপথ্যে একটি বিশাল রাজনৈতিক ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে।
উপসংহার-৫ আগস্টের এই অডিও বা ভিডিও বার্তাটি হতে পারে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক নতুন টার্নিং পয়েন্ট। ঢাকা কি পারবে তাঁর কণ্ঠরোধ করতে, নাকি দিল্লি থেকে ভেসে আসা সেই কণ্ঠস্বর রাজপথের সমীকরণ বদলে দেবে? উত্তরটি জানতে পুরো দেশ এখন ৫ আগস্টের সন্ধ্যার দিকে তাকিয়ে।