সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয় ২০০০ কোটি টাকা মোহনগঞ্জে কর্মস্থলেই অসুস্থ- রক্তবমির পর প্রাণ গেল স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কুড়িগ্রামে বন্যাদুর্গতদের জন্য বরাদ্দকৃত ৩০ মেট্রিক টন চাল,একমুঠোও জোটেনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ভাগ্যে জুলাই ব্যবসা ও হাদি ব্যবসা চালু রাখতে হবে: মাহমুদা মিতু দুবাইয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ পূর্বধলায় রাস্তা পার হওয়ার সময় অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু নেত্রকোনায় ভেজাল সার- কীটনাশক তৈরি,ব্যবসায়ীকে জরিমানা পূর্বধলা উপজেলা আওয়ামী লীগের ১০৩ বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন ১৫ ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ আ. লীগের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা  নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ এনসিপির ১০ নেতাসহ অজ্ঞাত আরও ৪০ থেকে ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয় ২০০০ কোটি টাকা

ডেইলি নেত্র নিউজ ডেক্স :
  • আপডেট : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ পঠিত

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে উপকারভোগী নির্বাচন, জরিপ, স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় শুধু কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্যই ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে : সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন সোশ্যাল প্রটেকশন ফর ইমপ্রুভড রেজিলিয়েন্স, ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং (এসএসপিআইআরআইটি)’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় পুনর্বিন্যাসের পর ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে প্রায় ১ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা ব্যয়ের সুপারিশ করেছে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি)।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী,স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড তৈরি ও বিতরণের জন্য চলতি অর্থবছরে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এছাড়া দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহের কাজে ৬৬ হাজার ৮১৫টি ট্যাব এবং পাঁচটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সুপার কম্পিউটার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ খাতে সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২২১ কোটিরও বেশি টাকা।

দেশের প্রকৃত সুবিধাভোগী পরিবার চিহ্নিত করতে ৬০ হাজার জরিপকারী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জরিপ, তথ্য সংগ্রহ, ডেটা এন্ট্রি ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণে জনবল ব্যয় হিসেবে প্রায় ৬৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।

এছাড়া মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকির জন্য কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ব্যয়, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সেমিনার আয়োজনসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পের সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত ডেটা এন্ট্রি ও কম্পিউটিং সেবা নেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি যানবাহন ভাড়ায় ব্যবহারেরও প্রস্তাব রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটে আলাদা কোনো বরাদ্দ না থাকায় সমাজসেবা অধিদপ্তর থোক বরাদ্দ থেকে প্রায় ১ হাজার ৫১১ কোটি টাকা স্থানান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে ৪১ লাখ মানুষের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে আরও উপকার ভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, দ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগস্টের মধ্যেই দেশব্যাপী জরিপ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কাজে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কারিগরি সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

তবে কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়ার পর থেকেই উপকারভোগী নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ কয়েকটি এলাকায় স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত নিম্নআয়ের অনেক পরিবার তালিকাভুক্ত না হলেও তুলনামূলকভাবে সচ্ছল কিছু ব্যক্তি ও বাড়ির মালিক ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নীতিমালায় ভূমিহীন, গৃহহীন, নারীপ্রধান ও প্রান্তিক পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই মানদণ্ড সব ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিতদের একটি অংশ এখনো তালিকার বাইরে রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন: সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দরিদ্র মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু অনুষ্ঠান আয়োজন বা প্রশাসনিক ব্যয়ে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দিলে কর্মসূচির কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তিনি উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্মুক্ত যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ড দেশের অন্যতম অগ্রাধিকারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। পরীক্ষামূলক বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চলতি অর্থবছরে এটি সারাদেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য একটি সমন্বিত জাতীয় জরিপের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে কার্ড বিতরণ করা হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
শিরোনাম...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
© All rights reserved © 2023-2025 Daily Netrakona News