
টানা বৃষ্টি ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ, নাজিরপুর ও লেংগুরা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
প্রবল স্রোতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের একাংশ ভেঙে গেছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক, পুকুর ও বসতবাড়ি। দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।এদিকে উপজেলার প্রধান উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর একটার দিকে কলমাকান্দা পয়েন্টে উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে নদীর বিপৎসীমা ৬ দশমিক ৭৩ মিটার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে: গত রোববার রাত প্রায় দুইটার দিকে হঠাৎ করে পাহাড়ি ঢল নেমে উপজেলার খারনৈ, নাজিরপুর ও লেংগুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খারনৈ ইউনিয়ন। গজারমারি, উত্তর রানীগাঁও, নয়াপাড়া, শ্রীপুর, বাগারগাঁও, তেলিগাঁও, বিশ্বনাথপুর, লক্ষ্মীপুর, বিষ্ণুপুর, গৌরীপুর, নলছাপড়া ও ভেলুয়াতলীসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক এবং অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে।
খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রবল স্রোতে বিদ্যালয় ভবনের একাংশ ভেঙে গেছে। শ্রেণিকক্ষে কোমড় সমান পানি জমে আছে। বেঞ্চ, টেবিল, আলমারিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এছাড়া বাউসাম, গোবিন্দপুর, বালুচড়া, সেনপাড়া,লক্ষ্মীপুর ও বিষ্ণুপুরসহ অন্তত ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। এরমধ্যে গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষককে নৌকায় করে বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে।
গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দীন ইসলাম বলেন: বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। প্রবল স্রোতে ভবনের একাংশ ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি কমলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন খান বলেন, গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি বেশি থাকায় সেখানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। সেগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।