মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পূর্বধলায় নদীতে ইট বাঁধা নবজাতকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ধর্ষক গ্রেপ্তার বারহাট্টায় মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জমি দখলের অভিযোগ ‎ কৃষককে অপহরণ করে ১২ লাখ মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে এনসিপির ৫ নেতা গ্রেপ্তার নেত্রকোনায় নানা আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন পূর্বধলায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ১৩ বছরের কিশোরের বিরুদ্ধে.. নেত্রকোনায় ৩ উপজেলা ৩ পৌর শাখা ছাত্রদলের নতুন আংশিক কমিটি অনুমোদন আ.লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে কোনো আইনি বাধা নেই: চিফ প্রসিকিউটর নেত্রকোনায় জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত ঘোষণার ১ ঘন্টা পরেই গোপালগঞ্জ বাদ দিয়ে ৬৩ জেলায় এনসিপির জুলাই পদযাত্রা সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার – বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

পূর্বধলায় নদীতে ইট বাঁধা নবজাতকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ধর্ষক গ্রেপ্তার

ডেইলি নেত্র নিউজ ডেক্স :
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ২৪ পঠিত

নেত্রকোনার পূর্বধলার হোগলা ইউনিয়নের কালিহর নদী থেকে ইট বাঁধা নবজাতকের লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত মোঃ সাজন মিয়া(২৫) উপজেলার কোনাকালিহর মাইজপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে।

বিজ্ঞাপ্তিতে পুলিশ জানায়: গত ২৯জুন বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে পূর্বধলা থানার কালিহর মাইজপাড়া এলাকায় কালিহর নদীতে ভাসমান অবস্থায় ইট বাঁধা অবস্থায় নবজাতক কন্যা শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় পূর্বধলা থানার এসআই(নিঃ) মোঃ ফারুক খান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

এরপরই ঘটনাটির নিবিড় তদন্তে নেমে বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারেন সাজন মিয়া প্রতিবেশী ভিকটীম ১২ বছরের শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার ফলে শিশুটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ভিকটিমকে সাজন মিয়া গর্ভপাত করিয়ে গর্ভজাত ভ্রুণ কালো শার্ট দিয়ে পেঁচিয়ে শরীরে ইট বেধে পানিতে ফেলে দেয়।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে সাজন মিয়াকে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, ভিকটিমের মা স্থানীয় ক্লিনিকের একজন ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করার সুবাদে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাড়ীর বাইরে থাকেন। এই সুযোগে সাজন মিয়া অনুমান সাত মাস পূর্বে সকাল ১০টার দিকে ভিকটিমকে ঘরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এ ঘটনার পরও আসামী সাজন মিয়া দুই-তিন দিন পরপর ভিকটিমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ীতে একা থাকার সুযোগে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আসামীর ধর্ষণের ফলে শিশুটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। ভিকটিম বয়সে ছোট এবং স্বাস্থ্য কম হওয়ার কারণে শারীরিকভাবে গর্ভাবস্থার বিষয়টি তার বাবা-মা টের পায়নি।

এরপর গত ২৮জুন সকাল ৮টার দিকে ভিকটিম পেটে ব্যাথা অনুভব করায় ভিকটিমের মা তাকে গ্যাসট্রিকের ঔষধ খেতে দিয়ে তার কর্মস্থলে চলে যায়। ঐদিন দিবাগত রাত ১২টার দিকে শিশুটি পূনরায় পেঠ ব্যাথা অনুভব করলে পূনরায় ঘনঘন প্রস্রাব খানায় যেতে থাকে। এরই একপর্যায়ে বসত ঘরের প্রস্রাব খানার পাশে রাত অনুমান ১টার দিকে ভিকটিমের গর্ভপাত হয়ে মৃত কন্যা শিশু প্রসব করে।

পরে ভিকটিম তার মাতাকে উক্ত বিষয়টি জানালে ভিকটিমের মাতা প্রস্রাব খানার পাশে মৃত নবজাতকটি দেখতে পায়। ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের বিষয়টি তার মায়ের নিকট প্রকাশ করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা সাজন মিয়াকে খবর দিয়ে বাড়িতে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদে আসামী সাজন মিয়া ভিকটিমকে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করে এবং উক্ত বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

এক পর্যায়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভিকটিম ও ভিকটিমের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাজন মিয়া একটি কালো রংয়ের শার্ট দিয়ে পেঁচিয়ে রশি দিয়ে একটি ইট বেধে নবজাতক কন্যা শিশুর লাশটি ভোর চারটার দিকে অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় কালিহর নদীতে ফেলে দেয়।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন: আসামী সাজন মিয়া কর্তৃক ভিকটিমকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সাজন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন সহ পরবর্তী কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলেও জানান ওসি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
শিরোনাম...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
© All rights reserved © 2023-2025 Daily Netrakona News