মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নীরব আশুগঞ্জ সার কারখানা : ১৬ মাসের লোকসান ১৩৬ কোটি টাকা গত ছয় মাসে দেশে ৮৬ শিশু হত্যা,যৌন নির্যাতনের শিকার ৩৩৬ জন গ্যাস সরবরাহ তলানিতে,বন্ধের মুখে বহু কারখানা নিজের মেয়েকে মানসিক রোগী দাবি করে ক্ষমা চাইলেন জামায়াত এমপি রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে মিলবে ফ্যামিলি কার্ড’ আল্লাহ আছেন নির্দোষ হয়েও আজ আমি অপরাধী নামজারি অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তার হাতেই শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার মোহনগঞ্জে তিন সন্তানের জননীকে নিয়ে বিএনপি নেতা আজব আলীর আজব কাণ্ড নেত্রকোনায় হেরোইন পাচারকালে কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী ললিতাসহ আটক ০৩ নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে চুরির অভিযোগে এক নারী আটক

নামজারি অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তার হাতেই শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার

ডেইলি নেত্র নিউজ ডেক্স :
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ২০ পঠিত

নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান ২০২৫ ও ২০২৬ অর্থবছরে কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন। গত ২৭ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

তবে এ সম্মাননা প্রদানকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে নামজারির প্রস্তাব দেওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করে নামজারি সম্পন্ন করা এবং অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি দায়িত্ব পালনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আগেই তাঁকে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে সম্মানিত করায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়: উপজেলার পদারকোনা মৌজার সাতজন জমির মালিকের ভুয়া দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া একটি নামজারির প্রস্তাব করেন তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল নামজারিটি অনুমোদন করা হয়।

নামজারির নম্বর ২৫-৬৪৩।অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নামজারির ভিত্তিতে জমি বিক্রির পর ক্রেতাদের নামে দলিল সম্পাদনের জন্য উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও দলিল লেখক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রহিছ মিয়ার যোগসাজশে আরেকটি ভুয়া দলিল তৈরি করা হয়। দলিলটি ২০২৬ সালের ২৫ জুন নিবন্ধনের জন্য উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দাখিল করা হলে অসংগতি ধরা পড়ে।

পরে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান জাল দলিলসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করেন। এ ঘটনায় ভুয়া দলিল নিবন্ধনের চেষ্টার অভিযোগে ২৮ জুন দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অফিসের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ভূমি অফিসের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, নামজারির প্রস্তাব পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট জমির সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার। অভিযোগ রয়েছে, সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে নামজারির প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তা অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়।

এ ধরনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাঁকে শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে সম্মাননা দেওয়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন মহলেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন: আমি অনেক আগেই ওই ইউনিয়ন থেকে বদলি হয়ে ফতেপুর ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করছি। আমি সঠিক কাগজপত্রের ভিত্তিতেই নামজারির প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এতদিন আপনারা (সাংবাদিকরা) কোথায় ছিলেন?”উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার বলেন: আমরা এখনও সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে এ বিষয়ে কোনো অফিসিয়াল কাগজ পাইনি। কাগজ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের মুখে থাকা একজন কর্মকর্তাকে কোন বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে,এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
শিরোনাম...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
© All rights reserved © 2023-2025 Daily Netrakona News