রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভাষণ: ঢাকায় কেন উদ্বেগ? ৫ আগস্টের ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’ও নেপথ্যের সমীকরণ! পরকীয়ার অভিযোগ গ্রামবাসীর হাতে আটক Content Creator রিপন মিয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে হাসিনার গণমাধ্যমে ভাষণ নিয়ে যা বলছে ভারত রাজধানীর তিন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল- ছাত্রশিবির দফায় দফায় সংঘর্ষ সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয় ২০০০ কোটি টাকা মোহনগঞ্জে কর্মস্থলেই অসুস্থ- রক্তবমির পর প্রাণ গেল স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কুড়িগ্রামে বন্যাদুর্গতদের জন্য বরাদ্দকৃত ৩০ মেট্রিক টন চাল,একমুঠোও জোটেনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ভাগ্যে জুলাই ব্যবসা ও হাদি ব্যবসা চালু রাখতে হবে: মাহমুদা মিতু দুবাইয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ

গত ছয় মাসে দেশে ৮৬ শিশু হত্যা,যৌন নির্যাতনের শিকার ৩৩৬ জন

ডেইলি নেত্র নিউজ ডেক্স :
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৩ পঠিত

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত দেশে অন্তত ৮৬ শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩৩৬ জন শিশু।শিশুদের নিয়ে কাজ করা উন্নয়ন সংস্থা ‘শিশুরাই সব’ গণমাধ্যমের সংবাদ পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। গতকাল সোমবার ঐ সংস্থা থেকে পাঠানো প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এতে দেখা যায় অধিকাংশ অপরাধীরা শিশুদের পরিচিত মানুষ; বাবা-মা, আত্মীয়, প্রতিবেশী, শিক্ষক কিংবা স্থানীয় পরিচিত ব্যক্তি। শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হওয়ার কথা নিজ বাড়ি বা পরিচিত পরিবেশ। দেখা গেছে, সেটিই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সারা বছরে যেখানে ১২৪টি শিশুহত্যা এবং ৩০৮ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে : নিহত ৮৬ শিশুর মধ্যে ৪৭ জন মেয়ে, ৩৬ জন ছেলে এবং তিন জনের পরিচয় জানা যায়নি। সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার হয়েছে শূন্য থেকে ছয় বছর বয়সি শিশুরা।
বিশ্লেষণে দেখা যায়প্রায় ৫০ দশমিক ৫৯ শতাংশ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে পারিবারিক পরিবেশে, নিজ বাড়ি বা আত্মীয়ের বাসায়। অন্যদিকে ৪১ দশমিক ১৮ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে রাস্তা, মাঠ, বাজার কিংবা জলাশয়ের মতো জনপরিসরে।

অপরাধীদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়: ১৭টি ঘটনায় বাবা-মা এবং ১১টি ঘটনায় নিকট আত্মীয় জড়িত ছিলেন। এছাড়া ২২টি ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন প্রতিবেশী বা পরিচিত ব্যক্তি। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি শিশুহত্যা সংঘটিত হয়েছে পরিচিত মানুষের হাতে। হত্যার কারণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ওঠে এসেছে রাগ, পারিবারিক কলহ ও ব্যক্তিগত বিরোধ—২২ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে : ৮৬টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৪৪টি ঘটনায় পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। অধিকাংশ মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে—৩১২টি ঘটনায় ৩৩৬ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১২৭ জন মেয়ে, ২৪ জন ছেলে এবং ১৮৫ জনের লিঙ্গ পরিচয় গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়নি।
সবচেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুরা।

এই বয়সের ১৭৫ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা মোট ঘটনার ৫২ দশমিক ০৮ শতাংশ। এছাড়া শুন্য থেকে ছয় বছর বয়সি ৯০ জন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যৌন নির্যাতনের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায় – ১৯১টি ঘটনা ছিল ধর্ষণ, ৭৫টি ধর্ষণের চেষ্টা, ৪৪টি একাধিক বার ধর্ষণ এবং ২৬টি দলগত ধর্ষণ। নির্যাতনের পর দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে, ১১ জন গর্ভধারণ করেছে এবং ৩২ জনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- অন্তত ১৬ জন বাক, বুদ্ধি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা কিংবা একাধিক বার যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

সংস্থার আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার বলেন: শিশু অধিকার হরণ একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। শিশু সুরক্ষায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, জাতীয় শিশু কমিশন গঠন, শিশু আইন-২০১৩ কার্যকর বাস্তবায়ন,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরত্বারোপ করেন তিনি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো সংবাদ
শিরোনাম...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
© All rights reserved © 2023-2025 Daily Netrakona News