
নেত্রকোনা সদর উপজেলা ৪নং সিংহের ইউনিয়নের অতি বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে, সজনপ্রীতি করে অকৃষক, অক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম তালিকাভুক্ত করার ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে কৃষি অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির বিরুদ্ধে।
সূত্রে জানা গেছে: গত এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে নেত্রকোনায় ভারী বর্ষণে হাওরের পাকা বোরো ধান তলিয়ে যায়। টানা বৃষ্টির কারণে কাটা ধানও শুকাতে না পারায় পচে নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতি হয় গোখাদ্য খড়েরও। এতে কৃষকদের বিপুল ক্ষতি হয়। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাঠে এসে প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করার নির্দেশনা দেয়।
কৃষি বিভাগের মতে, তালিকাভুক্ত কৃষকদের সরকার টানা তিন মাস ৩ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে এবং ১৫ কেজি চাল প্রতিমাসে সহায়তা দিচ্ছে। শুরু থেকেই অভিযোগ উঠে সহায়তার তালিকায় অকৃষক ও ক্ষতি হয়নি এমন কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাদ পড়েছেন প্রকৃত কৃষকরা। তালিকায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার, সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা স্বজনপ্রীতির পাশাপাশি তালিকাভুক্ত করতে কৃষকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়েছেন এমন অভিযোগও আছে। এই অভিযোগে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ গরিব মানুষ ও অসহায় কৃষকেরা।
এলাকাবাসী সূত্রে আরো জানা যায় : সিংহের বাংলা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ফরিদপুর পূর্বপাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রয়েছে প্রায় ৩০ জন কিন্তু। তালিকা হয়েছে ৮- ৯ জন অকৃষক ও অক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম শুধু বাদ পড়েছেন প্রকৃত কৃষকরা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা মো. মোজয়িদ উল্লাহ বলেন : আমরা তো অনেক জাস্টিফাই করে যারা প্রকৃত কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদেরই তালিকা প্রকাশ করেছি তারাই প্রকৃত কৃষক।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহনুমা নওরীন বলেন: আমি কিছুই জানি না এটা আমার কাজ না উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও তাদের সংশ্লিষ্ট কমিটির বলতে পারবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ( PIO) মোঃ আজিজুর রহমাননের অফিসিয়াল ফোনে বার বার কল করার পরের পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( UNO) আব্দুল্লাহ্ আল বাকিউল বারী বলেন : আমরা এই বিষয়ে একটি কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে তালিকাভুক্ত করেছি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরদের এরমধ্যে যদি প্রকৃত কৃষক তালিকাভুক্ত না হয়ে থাকে। অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।